হেবা দলিল এর বৈদহওয়ার শর্তগুলো কি কি
হেবা দলিল এর শর্তগুলো নিয়ে আজকে আমি আপনাদের সাথে আরোচনা করবো।এটি হেবা দলিল বৈদহওয়ার যে শর্তগুলো থাকে জমি দাতা গ্রহিতাকে সইচ্ছাই হেবা দলিল করে দিবে।
পোস্টসূচীপত্র:এটি হেবা দরিল বৈদহওয়ার জন্য ভেশ কয়েকটি নিয়ম আছে েএ নিয়ম গুলো না মানলে হেবা দলিল বৈদ হবে না।
হেবা দলিলের আবশ্যকীয় শর্তাবলী
১।দাতা
দাতা কর্তৃক হেবা দলিল মূলে দানের কথা স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে
ঘোষিত হতে হবে।এই রূপ ঘোষণা জারির জন্য কোন নিয়ম মাফিক আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন
নেই।কেবলমাত্র দাতা কর্তৃক দান গ্রহিতার বরাবরে নিজ স্বত্ব প্রদান করে নিঃস্ব
হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ পেলে চলবে।তবে এরূপ দান উদ্দেশ্যমূলক অর্থাৎ কোন বিশেষ
পাওনাদারের প্রতি প্রতারণা মূলক হলে চলবে না।
আরো পড়ুন : Mutation বা নামজারি খতিয়ান কি
২।গ্রহীতা
হেবা দলিল গ্রহিতা কর্তৃক প্রদত্ত উক্তরূপ হিবা প্রত্যক্ষ বা
পরোক্ষ ভাবে স্বীকৃত বা অনুমোদিত হতে হবে।যদি কোন নাবালক হিবা প্রত্যাখ্যান করে
পরবর্তীতে সাবালক হয়ে,এটি গ্রহণ করে,এই হেবাও বৈধ হবে।আবার ঋণদাতা ঋণের টাকা
ঋণ গ্রহীতার বরাবরে হেবা করলে সেই হেবাও বৈধ হবে।অর্থাৎ দান করার সময় দাতা
কিছু ঋণগ্রস্ত ছিল,শুধুমাত্র এটি হতে দাতার প্রতারণামূলক মনোভাব বা উদ্দেশ্য
অনুমান করা যাবে না।
৩।দখল প্রদান
বৈধ হেবা সম্পাদনের একটি উল্লেখযোগ্য শর্ত হলো হেবা দাতা কর্তৃক দানকৃত সম্পত্তিটি গ্রহীতা কে সঙ্গে সঙ্গে দখল প্রদান এবং গ্রহীতা বা তার পক্ষে অন্য কারো তাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখল গ্রহণ করা।দখল প্রদান বা গ্রহণ ছাড়া কোন হেবাই বৈধ হবে না।তার রেজিস্ট্রেশন করা হলেও দখলের প্রয়োজন অটুট থাকবে।
সুতরাং উপরোক্ত শর্তাবলী পালন করা হয়,তাহলে দানটি সম্পূর্ণরূপে বৈধ হবে।আবার যে দাতা কর্তৃক দানের বিষয়বস্তুকে গ্রহীতার নিকট অর্পণ করত:নিজে স্বত্ব ও দখল ত্যাগি হওয়ার জন্য একটি সৎ মনোভাব থাকতে হবে এবং তদঅনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন হতে হবে।
বৈধদানের অপরিহার্য উপাদানসমূহ
১।স্বেচ্ছায় বা বিনাপনে
দানে কোন পন নাই।পন থাকলে তা বিক্রয় হয় নতুবা
বিনিময় হয়।দানের মূল কথা হলো যে এটি বিনামূল্যে হস্তান্তর করতে হবে।উদ্দেশ্য
প্রণোদিত হয়ে বা পাওনাদারকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে কোন দান করা হলে ঐ দান
বাতিল যোগ্য হবে।দাতার পক্ষে অপরিহার্য শর্ত হল যে তিনি স্বত্ব প্রবৃত্তভাবে
এবং
বিনাপনে তার সম্পত্তি দান গ্রহীতার নিকটে হস্তান্তর করবেন।হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দাতার দখলকৃত সম্পত্তির শর্ত সম্পূর্ণ রূপে ছেড়ে দেওয়া হবে।স্থাবর সম্পত্তির দান হিবা নামা বা দানের দলিল দ্বারা সম্পাদিত হতে হবে। স্ত্রীকে সম্পত্তি দান করার পর বিবাহ বাতিল হয়ে গেলেও দান কার্যকারী হবে।এখানে পন বলতে সেই অর্থ বোঝানো হয় যে অর্থ Contract Act এ ব্যবহৃত হয়।
২।দাতা
যিনি দান করবেন তিনি দাতা।যে কোন সাবালক স্বাধীন সুস্থ্যমনা এবং সক্ষম ব্যক্তি তার নিজ সম্পত্তি দান করতে পারেন।চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা না থাকায় নাবালক দান করতে পারে না।সুতরাং নাবালক কর্তৃক দান বৈধ নয়। অছি জিম্মাকৃত সম্পত্তি হতে দান করতে পারবে না।যদি জিম্মা দানের শর্তাবলিতে তার অনুমোদন না থাকে।
৩।দান গ্রহীতা
দান গ্রহীতা সেই ব্যক্তি যিনি দান গ্রহণ করেন।চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা নেই
এমন ব্যক্তির দান অন্য কেউ দান গ্রহীতার পক্ষে অথবা স্বয়ং গ্রহণ করতে
পারবে।কিন্তু দানের দায়িত্ব যদি দুর্বহ করা হয় তবে সেই দায়িত্ব নাবালকের
উপরে চাপানো যাবে না। দান গ্রহিতা সাবালকত্ব অর্জন করার পর তাকে হয়
সেই
দান গ্রহণ করতে হবে, না হয় ফেরত দিতে হবে।দান গ্রহীতার পক্ষে অথবা স্বয়ং গ্রহণ করার শব্দ গুচ্ছ দ্বারা এই কথা বোঝানো হয়েছে যে, দান গ্রহীতা এমন ব্যক্তিও হতে পারে যে তার গ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করতে অপরাগ যেমন-শিশু। তবে দান গ্রহীতার আচরণ হতে এটি বুঝা যাবে যে সে এটি মেনে নিয়েছেন।
আরো পড়ুন : sa খতিয়ান কি?এস এ খতিয়ান ইতিহাস
দান গ্রহীতা কে অবশ্যই দান গ্রহণের সময় জীবিত হতে হবে।দান গ্রহীতা কে সনাক্ত যোগ্য ব্যক্তি হতে হবে।জনসাধারণ দান গ্রহিতা হতে পারবে না।রেজিস্ট্রিকৃত নয় এমন কোন সংঘকে দান করা যাবে না।দুই বা ততোধিক ব্যক্তিকে দান করলে তারা যুগ্ন রায়তের ধারণা হিন্দু দানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয় না। হিন্দু দানের ক্ষেত্রে দান গ্রহীতাদের সাধারণ রায়তের মত গণ্য করতে হবে।
৪।দানের বিষয়বস্তু
দানের বিষয়বস্তুকে অবশ্যই কোন না কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি হতে
হবে।এটি জমি,দ্রব্যসামগ্রী এবং নালিশ যোগ্য দাবি বা সম্পত্তি যেমন-বীমা পলিসি
হবে।এটি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬ ধারা মোতাবেক হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।এটি
কোন ভবিষ্যৎ সম্পত্তি হতে পারবে না।নির্ধারিত খাজনা এবং ট্যাক্সের অধিকার দান
করা যাবে।কিন্তু কোন স্থানের ভবিষ্যৎ খাজনাকে দান করলে ত গ্রাহ্য হবে না।ঋণ
ছাড় দিলে এটি দান হবে না।
৫।দাতা কর্তৃক দান সম্পর্কে ঘোষণা
দাতাকে অবশ্যই তার দান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।এইরূপ ঘোষণা কালে কোন রূপ আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয় না।শুধুমাত্র দাতার ঘোষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হতে হবে।যে সে বিনা প্ররোচনায় স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে আন্তরিক ভাবে দল গ্রহীতার বরাবরে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি দান মূলে হস্তান্তর করতে আগ্রহী বা ইচ্ছুক।
৭।দান গ্রহণ
দান কার্য সম্পন্ন হওয়ার সময় অবশ্যই দানের বিষয়বস্তুর
অস্তিত্ব থাকতে হবে।স্থাবর এবং অস্থাবর যেকোনো সম্পত্তি দান করা যায়। তবে
দান করার সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব নেই তা দান করা যায় না। কারণ তা বৈধ
হবে না।
দান গ্রহণ প্রকাশ্য হতে পারে আবার নাও হতে পারে।গ্রহণে অনুমান স্বপক্ষে হতে পারে।যে ব্যক্তি দানকৃত সম্পত্তি লাভ করতে সক্ষম সে গ্রহীতার বা এই দান গ্রহণের উপযুক্ত বলে গণ্য হতে পারে।এটি দান গ্রহণকারী যে মুসলমান হতে হবে এমন কোন বাধা ধরা নিয়ম নাই।যে কোন বয়সের নারী,পুরুষ,জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকে দান গ্রহণ করার যোগ্য।
দান গ্রহণ দখল দ্বারা প্রমাণিত হতে পারে।এমনকি দানের দলিল (হেবা নামা) গ্রহীতার দখলে থাকলেও প্রমাণিত হবে। দলিল স্ট্যাম্পকৃত হওয়া না হওয়া কিছু ক্ষেত্রে কোন অভিভাবক দান গ্রহণ করতে পারে।দেবতা ইত্যাদির বেলায় বা ধর্মীয় দান গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরোহিত বা মোতাওয়াল্লী দান গ্রহণ করে থাকেন।
দাতার জীবিকা অবস্থায় দান-সম্পাদিত না হলে দান কার্যকারী হবে না।গ্রহণের পূর্বে গ্রহীতা মারা গেলেও দান কার্যকর হবে না।দান কোন ট্রাষ্টের নিরপেক্ষ প্রশাসন কর্তৃক সম্পাদিত হতে পারবে যে স্বত্বা অস্তিত্ব সম্পন্ন হয়ে ওঠে নাই এবং সরাসরি দান গ্রহণে সক্ষম হয় নাই এমন স্বত্বার নামে ট্রাষ্টীগণ এর মধ্যস্থতার দান সম্পাদিত হতে পারবে।
ট্রাষ্টের সম্পত্তি দান উদ্দিষ্ট সত্ত্বা বা ব্যক্তির উপকারার্থে ট্রাষ্টীগণের দায়িত্বে ন্যাস্ত না করা পর্যন্ত ট্রাষ্ট সম্পন্ন হবে না।ট্রাষ্টকারী স্বয়ং ট্রাষ্ট সম্পন্ন না করলে আদালত এটি কার্যকারী করবে না।আবার হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতে গ্রহণ প্রয়োজনীয় নয় তবে মিতাক্ষরা মতে গ্রহণ প্রয়োজনীয়।
আরো পড়ুন : cs খতিয়ান কি?সি এস খতিয়ান চেনার উপায়
৮।স্বেচ্ছা প্রনোতিদ
বৈধ দানের অন্যতম উপাদান হলো দান কার্যটি অবশ্যই
স্বেচ্ছামূলক হতে হবে অন্য আয় এরূপ দান অশুদ্ধ বলে গণ্য হবে।ভয় ভীতি
প্রদর্শন পূর্বক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বা পাওনাদারকে প্রতারিত করার
উদ্দেশ্যে কোন দান করা হলে ঐ দান বাতিল যোগ্য হবে।
৯।দখল হস্তান্তর
মুসলিম আইন অনুযায়ী বৈধ দানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
উপাদান হলো দখল হস্তান্তর।অর্থাৎ দাতা দানকৃত সম্পত্তিকে দান গ্রহীতার বরাবরে
সঙ্গে সঙ্গে দখল প্রদান করবে আর অন্যদিকে গ্রহীতা এটি গ্রহণ করবে।কারণ দখল
হস্তান্তর ব্যতীত দান কার্য সম্পন্ন হয় না।অবশ্য দখল হস্তান্তর
প্রত্যক্ষভাবে প্রদান করা যায় আবার পরোক্ষভাবেও প্রদান করা যেতে পারে। তবে
দানপত্রটি দখল হস্তান্তর না করে রেজিস্ট্রিকৃত হলে এটি দ্বারা হস্তান্তরের
চাহিদা পূরণ হয় না।
১০।মালিকানা
দাতাকে দানের বিষয়বস্তুর বৈধ মালিক হতে হবে।দানকৃত বিষয়
স্থাবর অথবা অস্থাবর হতে পারে।তবে এটি কোন ভবিষ্যৎ সম্পত্তি হতে পারবেনা।কেউ
তার ইনসিওরেন্স অন্যকে দান করলে তা বৈধ হবে।এই প্রসঙ্গে ঐ টাকা ভবিষ্যতে
পাওয়ার কথা থাকলেও দান বৈধ হবে। দাতার যে সম্পত্তি অন্যের দখলে রয়েছে
দখলকারী তার মালিকানা দাবী করে থাকলে দান করা যাবে।দাতা গ্রহিতাকে দখল দিবেন
কিংবা এটি দেওয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবেন বলে থাকলে এটি বৈধ
হবে।
১১।রেজিস্ট্রেশন
মুসলিম আইনে দান মৌখিক বা লিখিত যেকোন ভাবে সম্পন্ন
করা যেতে পারে।তবে সকল ক্ষেত্রে হতে হবে এমন কোন নিয়ম নাই।সম্পত্তি
হস্তান্তর আইনের ১২৩ ধারার বলা হয়েছে কোন স্থাবর সম্পত্তির দান অবশ্যই দুইজন
সাক্ষীর দ্বারা সনাক্ত করে দাতার সহি সাপেক্ষে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে
কার্যকরী করতে হবে।
যে ক্ষেত্রে লিখিতভাবে দানপত্রটির সম্পন্ন হয় সেই ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রয়োজন হয়।এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্য একশত টাকার অধিক মূল্যবান হলে এটি রেজিস্ট্রি করতে হয়।সুতরাং অস্থাবর সম্পত্তির দানের ক্ষেত্রেও রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হয়।
রেজিস্ট্রেশন যে করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা মুসলিম আইনে দানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মূল কথা দখল অর্পণ ছাড়া দান কার্য সম্পন্ন হয় না। এমনকি দানপত্র (হিবা নামা) টি রেজিস্ট্রিকৃত হলেও এটি দ্বারা দখল হস্তান্তরের চাহিদা পূরণ হয় না।
লেখক এর মতামত
আমি (শামিম মোক্তার) শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রি শ্রীপুর.গাজিপুর।হেবা দলিল এর বৈদহওয়ার শর্তগুলো নিয়ে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।
নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url